ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল আরব আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১০:৩২ এএম
ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত— এমন দাবি উঠেছে মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া একমাত্র আরব দেশ হিসেবে এবার আরব আমিরাতের নাম সামনে এসেছে।
সোমবার (১২ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, গত এপ্রিলের শুরুতে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে থাকা একটি তেল শোধনাগারও ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে হামলাটি সেই ঘোষণার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর ইরান একটি স্থাপনায় ‘অজ্ঞাত শত্রুর’ হামলার অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে এর জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও পুরো সংঘাতে আমিরাতের সম্পৃক্ততার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে লাভান দ্বীপে হামলাকে দেশটির সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও ওয়াশিংটন আবুধাবির অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে।
তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা আগের এক বিবৃতির উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছে।
এর আগে গত মার্চে কয়েকটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের একটি পানি শোধনাগার প্ল্যান্টে হামলা চালায় আমিরাত। তবে সে সময় আবুধাবি ওই খবরকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি ড্রোন হামলা হয়েছিল। এতে আরব আমিরাত অঞ্চলটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
এ ছাড়া যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলার হুমকি দেয় তেহরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অবরোধের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরির চেষ্টাও করে তারা। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়, তবুও কয়েকটি হামলায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে যুদ্ধ শেষে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।