নির্বাচনী প্রচারণা শেষ, বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রচারণা শেষে ঘরে ফেরার আগে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান।
এর আগে দিনভর রাজধানীর আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া ১৯ দিনের প্রচারণায় তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নেন। এসব সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমানের প্রচারণা শুরু হয় সিলেট থেকে। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকায় থেকে সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এ সময় সড়কের দু’পাশে হাজারো মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান।
পরদিন সিলেটে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’-এ অংশ নেওয়ার পর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দেন।
একই দিনে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন তিনি। পরদিন ঢাকার ভাষানটেক বিআরবি মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরায় জনসভা করেন।
উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়ায় সফরের সময় দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক ভিটায় রাত কাটান তারেক রহমান। রংপুরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল হয়ে খুলনা ও যশোরে জনসভা করেন।
বরিশালে হেলিকপ্টারে সফর, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ফরিদপুর বিভাগ, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ নগর গড়ার অঙ্গীকারও করেন।
রোববার ও সোমবার ঢাকার মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী ও লালবাগসহ ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা করেন তারেক রহমান। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণার ব্যস্ততা শেষ হয়।
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে যে নির্বাচনি যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হলো বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে—আবেগঘন এক সমাপ্তিতে।