১৭ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি: জামায়াত আমির
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১১:০৩ এএম
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে এসেছেন। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত তরুণদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না।
শনিবার (১৬ মে) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে এক বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা সেই জনগণকেই অবমূল্যায়ন করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্বপ্নবাজ তরুণদের আত্মত্যাগের কারণে কেউ কারামুক্ত হয়েছেন, কেউ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন। অথচ এখন সেই তরুণদেরই ‘শিশু সংগঠন’ বা ‘গোপন সংগঠন’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। বিগত স্বৈরাচারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, তারা ভালো কাজের পক্ষে থাকবেন, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন। সংসদে কথা বলতে না দিলে জনগণের মাঝেই বক্তব্য তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে সম্মান করা হয়, তবে কেউ চোখ রাঙালে তা মেনে নেওয়া হবে না। দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানিসংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খাল খনন ভালো উদ্যোগ হলেও নদীতে পানি না থাকলে তার সুফল পাওয়া যাবে না। নদী বাঁচাতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম। তারা বলেন, রাজনীতি এখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং পুরনো রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহির কথাও তুলে ধরেন তারা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল হক, অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।