এসিল্যান্ডের লুকোচুরি নিলাম,২১ গাছের বদলে কাটা হলো ২৮টি
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য নিলামের নামে গোপনে ও বেনামে সরকারি গাছ বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী নিলাম হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি; বরং তড়িঘড়ি করে পছন্দের ব্যক্তির হাতে সরকারি সম্পদ তুলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চত্বরে থাকা ২১টি গাছ নিলামের সিদ্ধান্ত হয়। গত ৫ মার্চ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্য নিলামের তারিখ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে আগ্রহীরা সেখানে গিয়ে কোনো নিলাম ডাক দেখতে পাননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা করে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে গোপনে এই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মাত্র তিনজনকে উপস্থিত দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নূর আলম নামে একজনকে সর্বোচ্চ দরদাতা বানানো হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, নূর আলম নিজেই জানেন না কবে বা কোথায় এই নিলাম হয়েছে। এমনকি তিনি নিলামে উপস্থিতও ছিলেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামে ২১টি গাছের অনুমোদন থাকলেও ঈদের ছুটির সুযোগে ২৮টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ৭টি গাছের কোনো হিসাব সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। ৩ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন কাঁঠালবাড়ী বাজার সমিতির নেতারা।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতার অনুপস্থিতি এবং অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।