এমপি মোস্তাফিজুরের উপস্থিতিতে রৌমারীতে অনলাইন লটারিতে কৃষক নির্বাচন, শুরু ধান সংগ্রহ কার্যক্রম
মো. সাব্বির মামুন
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা-এ চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবার স্বয়ংক্রিয় অনলাইন লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)।
রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনলাইন লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের নাম ঘোষণা করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কৃষক সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ৩২২ জন কৃষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।
লটারির ফলাফল প্রকাশের সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে নিজেদের নাম খুঁজে দেখেন এবং নির্বাচিত হওয়ার খবর পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। নির্বাচিত কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রৌমারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মোঃ মিজানুর রহমান, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা লিটন দাসসহ স্থানীয় কৃষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অতীতে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষক নির্বাচন করায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন,“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে অনলাইন লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাজারে ধানের দাম কম থাকায় সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে অনলাইন আবেদন ও লটারির মাধ্যমে নির্বাচন হওয়ায় তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
কৃষিনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত রৌমারীতে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ কৃষকদের মাঝে আস্থা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু থাকলে ভবিষ্যতে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দুর্নীতি কমবে এবং প্রকৃত কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।