ঢাবিতে দুই দশক আগের ছাত্রদল নেতাকে হল সিট, ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দুই দশক আগে ভর্তি হওয়া এক ছাত্রদল নেতাকে পুনরায় আবাসিক হলের সিট দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় হল সংসদসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতা মো. আলা উদ্দিন রাজনৈতিক মামলার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে তিনি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনরায় ভর্তি হন এবং সর্বশেষ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আবারও ভর্তি হন। বর্তমানে তাকে শেখ মুজিবুর রহমান হল-এ সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি ও সিন্ডিকেটের বিশেষ বিবেচনায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে পুনঃভর্তি ও হলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনকে শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, হলে কয়েকজন ‘আদু ভাই’কে সিট দেওয়া হয়েছে। তাদের সিট না দেওয়ার জন্য প্রভোস্টকে অনুরোধ জানানো হলেও মানবিক কারণ দেখিয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের দাবি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে এসব সিট বরাদ্দ দিয়েছে।

অন্যদিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান জানান, যেসব শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে থাকতে পারেননি বা বিভিন্ন কারণে বহিষ্কৃত ছিলেন, তারা তৎকালীন উপাচার্যের কাছে আবেদন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিশেষ অনুমতিতে ছাত্রত্ব ফিরে পান। তাদের ‘ব্রেক অফ স্টাডি’কে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রভোস্ট কমিটি ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়ম মেনে আবেদন করলে এবং সিট খালি থাকলে তাদের আবাসনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ ও ১৭ জুলাই আবাসিক হলগুলো ছাত্রলীগের দখলমুক্ত করার পর জরুরি ভিত্তিতে সিট বণ্টনের নীতিমালা প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কিছুদিন পর সেই নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছিল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ছাত্রত্বহীন শিক্ষার্থী, স্নাতক শেষ করেও নিয়মিতভাবে মাস্টার্সে ভর্তি হয়নি—এমন কেউ হলে থাকতে পারবে না। অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে, না হলে কর্তৃপক্ষ তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলতে পারবে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495