‘শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে’, অধ্যাপককে ছাত্রদল নেতার হুমকি
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক অধ্যাপককে হুমকি দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনকের একটি ফেসবুক পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্য করেন শাখা ছাত্রদলের এক নেতা।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম মন্তব্যে লিখেন, ‘শিক্ষক শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে।’ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
জানা যায়, শরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তার বাড়ি বগুড়ায়। একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনক ওই পোস্টটি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করেছিলেন।
ওই পোস্টে অধ্যাপক কনক দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘শকুনিমুক্ত করতে দেড় হাজার প্রাণ ঝরলো, ত্রিশ হাজার আহত হলো। কারও নেই জীবন গড়ার পরিকল্পনা। চলছে নেড়িকুত্তা আর শুকরের কামড়াকামড়ি।’
এই পোস্টের মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক শিক্ষার্থী এমন মন্তব্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে নিন্দা জানান এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার দাবি তোলেন।
রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন শিক্ষককে এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, তিনি পোস্টটি মুছে দিয়েছেন এবং মন্তব্যকারীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। পুরো বিষয়টিকে তিনি অস্বস্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, কোনো শিক্ষার্থী তার সঙ্গে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করবে—এমনটা তিনি আগে ভাবেননি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম নিজের মন্তব্যকে ভুল বলে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রথমে পোস্টের জবাবে পাল্টা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উত্তেজিত হয়ে ওই মন্তব্য করেন। তবে তিনি তার বক্তব্যকে সঠিক বলে মনে করেন না বলেও জানান।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।