শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি, যুবদল নেতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজি, হুমকি ও চিকিৎসককে হেনস্তার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি জানান, আলোচিত এই চাঁদাবাজি মামলার মূলহোতা মঈনসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
রোববার গভীর রাতে নড়াইল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের তথ্যমতে, মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. স্বপন কাজী (৩৬) এবং মো. শাওন হোসেন (২৫)। দেশজুড়ে পরিচিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেন।
এ সময় ওটি ইনচার্জ আবু হানিফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ধরা পড়ে। পরে শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় মঈনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হন আবু হানিফ নিজেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি জোর করে হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করেন এবং একাধিকবার বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন।
এছাড়া হাসপাতালের কিছু কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মঈন প্রায়ই বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে হাসপাতালে এসে মহড়া দিতেন এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেন।
বর্তমানে গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। র্যাব জানিয়েছে, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সেবা ব্যাহত করা বা চিকিৎসকদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।