নকলের চল্লিশা-দাফন সব করেছিলাম, এটা পুনর্জন্ম নেবে ধারণায় ছিল না: শিক্ষামন্ত্রী
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৫ এএম
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহাছানুল হক মিলন বলেছেন, একসময় দেশে নকল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়েছিল। তবে নতুন করে এটি আবার ফিরে আসবে—এমন ধারণা তার ছিল না।
রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আগে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি আন্তরিক ছিল এবং শিক্ষকদের সামনে নকল করার সাহস পেত না। আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তেমনভাবে দেখা দিত না। তবুও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নকল প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে নকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে কার্যত এটি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিল।
তিনি বলেন, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই নকল আবার নতুনভাবে ফিরে আসবে, এমনটি কল্পনাও করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন নকলের ধরন বদলে গেছে। এটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে এবং দুঃখজনকভাবে কিছু শিক্ষকও এতে সহযোগিতা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের খাতায় সরাসরি উত্তর লিখে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের দায়িত্ব মূলত শিক্ষকদেরই নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা শিখতে আসে, তারা নতুন এবং অজ্ঞ—তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের। নকলের প্রবণতা শুধু শিক্ষার্থীদের কারণে নয়, বরং এর পেছনে শিক্ষক, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সবার দায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে পাঠদান না হওয়ায় অভিভাবকরা প্রাইভেট পড়ার দিকে ঝুঁকছেন। প্রথমে একজন শিক্ষক দিয়ে শুরু হলেও পরে একাধিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। তাতেও সমাধান না হলে কোচিং সেন্টারে পাঠানো হয়।
কোচিং সেন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল ও কোচিং সেন্টারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়—এটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কোচিং সেন্টার বেঞ্চ বসিয়ে শ্রেণিকক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে পাঠদান করছে, যা মূল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।