গ্রীষ্মেই আঘাত হানতে পারে ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘এল নিনো’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে আবারও দেখা দিতে পারে এল নিনো পরিস্থিতি, যা এবার অস্বাভাবিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি যদি ‘সুপার এল নিনো’তে পরিণত হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছাতে পারে। একইসঙ্গে ঝড়, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

এল নিনো হলো একটি জলবায়ুগত ঘটনা, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত শূন্য দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। এই পরিবর্তন বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সাধারণত উত্তর গোলার্ধের বসন্তে এর সূচনা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এটি ফিরে আসে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে সেটিকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে ধরা হয়, যা খুবই বিরল ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সম্ভাব্য এল নিনো অতীতের তুলনায় আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস মডেল একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবুও প্রয়োজনীয় উপাদান ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল, ভারত এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় তীব্র গরম ও খরার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশ, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চল এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়, পানির সংকট তীব্র হয় এবং সমুদ্র অঞ্চলে ঝড়ের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ুর এই পরিবর্তনে খরা পুরোপুরি দূর হয় না; বরং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এল নিনো ঘটনাগুলোর একটি ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের পূর্বাভাস কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495