৫-৬ হাজার টাকায় মিলবে স্মার্টফোন, কিস্তি সুবিধা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১১:১১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার আরও বাড়াতে কম দামে ডিভাইস সরবরাহ এবং কিস্তিতে কেনার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশে এখনো স্মার্টফোন ব্যবহার ৫০ শতাংশের নিচে। অথচ সরকার চতুর্থ প্রজন্ম ও পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কথা বলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতে উপযুক্ত ডিভাইস না পৌঁছালে এসব প্রযুক্তির সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোন কিনতেও প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে, যা কৃষক, শ্রমিক বা রিকশাচালকদের নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে ফোন চান—এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, মোবাইল প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, একটি বেসিক চতুর্থ প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড ফোন তৈরি করতে গ্লাস, চিপ, সার্কিট বোর্ড, ব্যাটারি ও কেসিংসহ প্রায় ৬০ ডলার খরচ পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিপের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এরপরও সরকার সহায়তা দিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির পথ খুঁজছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কম দামে ফোন বাজারে আনা নয়, গ্রাহকদের জন্য মাসিক কিস্তির ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মোবাইল অপারেটর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও প্রস্তুতকারকদের নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কিস্তি সুবিধা চালু হলে একজন গ্রাহক ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করতে পারবেন এবং ছয় থেকে বারো মাসে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এমদাদ উল বারী, মোবাইল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুলফিকার, ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমানসহ টেলিকম খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495