৫ দফা দাবিতে রাজধানীতে জামায়াতের শক্তিশালী শোডাউন
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৩ পিএম
রাজধানীতে ৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক শক্তিশালী শোডাউন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানে উঠে আসে— “এই মুহূর্তে দরকার, পিআর আর সংস্কার”, “সংসদের উভয় কক্ষে পিআর চালু করতে হবে”, “আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ” এবং “১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে” ইত্যাদি।
এর আগে সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং চাপের মুখে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’র আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্ট দাবি জানিয়েছি— জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে তার আলোকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। কিন্তু একটি দল বলছে, এর কোনো আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, পরের সরকার এলে সেই সরকার সংস্কার করবে। তারা এমন বক্তব্য দিচ্ছে কারণ এর মধ্যেই তাদের দুরভিসন্ধি লুকিয়ে আছে।”
মিয়া গোলাম পারওয়ার আরও বলেন, “আমাদের প্রশ্ন করা হচ্ছে, কেন আলোচনার টেবিল ছেড়ে আবারও মাঠে কর্মসূচি দিচ্ছি? আমরা বলি, এই সরকার চাপের মুখে শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নিচ্ছে। নির্বাচনের আগে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, তবে দেশ মহাদুর্যোগের দিকে যাবে। বাংলার মানুষ আর ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিন, সাংবিধানিক অর্ডার জারি করুন এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনীতি অকার্যকর করুন।”
জামায়াতের ৫ দফা দাবি
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।
২. জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা।
৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
এদিনের কর্মসূচিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।