ভোলায় জামায়াতকর্মী বিবি সাওদা গ্রেপ্তার, সামাজিকমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে ভোলা পৌরসভার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক তার এক পোস্টে অভিযোগ করেন, এই গ্রেপ্তার পুরনো নিপীড়নমূলক শাসনের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে তিনি বিবি সাওদার মুক্তি ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির তার প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, একটি লেখনীর কারণেই ক্ষমতাসীনদের অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলে বলেন, একটি পোস্ট শেয়ারের কারণে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হলে তা সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। এ কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এদিকে, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারও তার প্রতিক্রিয়ায় বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।