তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: জামায়াত আমির
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের জ্বালানি সংকট ও সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবে দেশে তেলের সংকট থাকলেও সংসদে সরকারি দলের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
সংসদীয় কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নই সংসদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। জনগণের করের টাকার যথাযথ হিসাব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি এবং জানান, এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সুফল আসেনি।
দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো সমাজ এখন ‘গোঁজামিল’ ও ‘টপ-ড্রেসিংয়ের’ ওপর চলছে। ব্যাংকিং খাতে বাস্তবে নগদ অর্থের ঘাটতি থাকলেও কাগজে-কলমে লাভ দেখানোর প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে জোর করে নেতৃত্ব দখলের চেষ্টা চলছে—যা একটি অস্বাস্থ্যকর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
কৃষিকে দেশের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, কৃষি খাতে বিপর্যয় দেখা দিলে বিদেশি ঋণ বা সহায়তাও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি মজুত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সময়ে জাতিসংঘ-এর বরাত দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত বন্ধ হলেও এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারের প্রতি ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা আনা এবং অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে সৌরশক্তিসহ বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহী। উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং চলমান সংকটের কারণে বোরো চাষে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।