আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম, আ. লীগের দোসর কোথা থেকে হলাম?: মনজুর আলম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ যাওয়ার পর ওই বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নানা প্রশ্ন করছেন এবং সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলেও উল্লেখ করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
ভিডিওতে উপস্থিত কয়েকজনকে মনজুর আলমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শোনা যায় এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ সেখানে কেন গিয়েছিলেন তা নিয়েও জবাবদিহি চান তারা। তবে পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা জানতে হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেন সাবেক মেয়র মনজুর আলম। তিনি জানান, চট্টগ্রামে একটি কর্মসূচিতে এসে হাসনাত আব্দুল্লাহ দুপুরে তাকে ফোন করেন এবং বাসায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি তাকে দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানান।
মনজুর আলম বলেন, বিকেল ৩টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় আসেন এবং সেখানে খাবার গ্রহণ করেন। কিছু সময় পর বাইরে কিছু লোক জড়ো হলে পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার দিকে চলে যান।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মনজুর আলম বলেন, “আমার নামে তো কোনো মামলাও নেই। আমি আওয়ামী লীগও করি না। আমি আওয়ামী লীগের দোসর কোথা থেকে হলাম?”
তিনি আরও বলেন, “আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম। আমি কী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলাম নাকি? আওয়ামী লীগের তো আমি কিছুই ছিলাম না।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছিল তাদের অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মনজুর আলম জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন।
আগামীতে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে হলেও তিনি কাউকে এমন কিছু বলেননি এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।
উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।