রাজিবপুরে বিএনপি নেতার সার গুদামের তালা ভাঙার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার গুদামে আটকে রেখে চড়া দামে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও নিবন্ধিত সার ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁর মালিকানাধীন ‘শফি এন্টারপ্রাইজ’ নামের বিক্রয়কেন্দ্র ও গুদামের তালা ভেঙে সার লুটের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শফিউর রহমানের গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত ছিল। সার পাওয়ার আশায় ভোররাত থেকে শত শত কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ডিলার যথাসময়ে গুদাম না খুলে টালবাহানা করেন। কৃষকদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির জন্যই ডিলার এই পাঁয়তারা করেছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক মফিজুল হক ও আবদুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা সারের মুখ দেখিনি। অন্য ডিলারদের তুলনায় শফিউর রহমানের গুদামে সার বেশি থাকলেও তা আটকে রাখা হয়েছিল।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার শফিউর রহমান দাবি করেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাশের একটি বাড়ি থেকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। কিছু লোক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উসকানিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের। তাঁর উপস্থিতিতে গুদামের সার কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিতরণ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি সার আটকে রাখা বা গুদামে রেখে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
অন্যদিকে, রাজিবপুরে আরেক ডিলার আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩৫০ টাকার সরকারি সার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা। চট্টগ্রাম থেকে বাড়তি দামে সার আনার অজুহাত দেখালেও তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সারসংকট ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।