ট্রাম্পকে ফোন করে ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানালেন মামদানি
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এই ঘটনাকে তিনি সরাসরি ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মেয়র মামদানি বলেন, ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের একতরফা উদ্যোগ শুধু দেশটির জন্যই নয়, নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত ভেনেজুয়েলান কমিউনিটির জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তিনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা প্রকাশ করেননি মামদানি।
এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের ওপর একতরফা সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন—দুটোরই লঙ্ঘন। এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি নিউইয়র্কে বসবাসরত ভেনেজুয়েলানরাও সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন।
মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুই দিন পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে ব্রিফিং পান। তখন তাকে জানানো হয়, মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদের ফেডারেল হেফাজতে এনে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং ভারী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার পরিকল্পনাসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দাবি, মার্কিন আদালতেই এই মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি অভিযানের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, মাদুরো একজন বিতর্কিত শাসক হলেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ক্ষমতার ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের ঘটনা এখন কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।