ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অসহায় স্বীকারোক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পর্দার আড়ালে ইসরায়েলের নীতিনির্ধারক মহলেও এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানে অব্যাহত বোমাবর্ষণের মধ্যেও কোথাও গণঅভ্যুত্থানের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে ইসরায়েলের মূল্যায়ন ভিন্ন। দেশটির অন্তত দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো সংঘাতের অবসানের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি অসংখ্য ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারণা করেছিল, হামলা শুরু হলে ইরানের জনগণ রাজপথে নেমে সরকারের পতন ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক সংকট ও বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ থাকলেও সংকটময় সময়ে অনেক ইরানি নাগরিক বর্তমান শাসকদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সরকার পতনের লক্ষ্য সামনে রেখে অভিযান শুরু হলেও এখন সে লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
যৌথ বিমান হামলা শুরুর দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তাদের এই পদক্ষেপ সাহসী ইরানি জনগণকে নিজেদের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।
পরে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি আবারও বলেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ইরানি জনগণকে স্বৈরাচারের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করা। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ইরানি জনগণকেই নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে নিকট ভবিষ্যতে ইরানে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা খুবই কম।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে শুরুতে দুর্বল বলে মন্তব্য করলেও পরে তাকে নিয়ে আর কোনো বিশেষ মন্তব্য করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় এখন সংঘাতের অবসানের পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।