ইরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণে জনতার ঢল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাতের পর দেশজুড়ে শোকের আবহে রাজধানী তেহরানে নেমেছে জনতার ঢল। বৃহস্পতিবার ৪০ দিনের জাতীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে আয়োজিত শোকসভা ও মিছিলে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। শোকসভা থেকে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিপ্লবী জনতা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানের জোমহুরি স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া শোক মিছিলগুলো খামেনি হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসব মিছিল পরিণত হয় বিপ্লবী চেতনার প্রতি জনতার অটল সমর্থন এবং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের মঞ্চে।
শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষজন বিভিন্ন স্লোগান দেন, শোকগাথা পাঠ করেন এবং খামেনির আদর্শের প্রতি পুনরায় আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাদের কণ্ঠে ছিল প্রতিরোধ, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের ঘটনায় শুধু ইরানের নেতৃত্বই নয়, বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা গভীর শোকের জন্ম দিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ১০০ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে শত্রুপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যা সংঘাতের সাময়িক অবসানের ইঙ্গিত দেয়।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাত ইসলামী বিপ্লবকে আরও শক্তিশালী করেছে। তার ত্যাগকে ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা জানায়, এই ঘটনা জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধকে আরও দৃঢ় করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খামেনির উত্তরাধিকার প্রতিরোধ, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পথ দেখিয়ে যাবে।