রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে মর্মান্তিক ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা। অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে বসে সাক্ষ্য দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রামিসার বাবা আদালতকে জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। বাসার সামনে মানুষের ভিড় দেখে তিনি তৃতীয় তলায় যান এবং জানতে পারেন পাশের ফ্ল্যাট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয়রা দরজা খুলতে না পেরে ভাঙার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন। ভেতরে প্রবেশ করার পর টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান তিনি।

আব্দুল হান্নান মোল্লা আরও বলেন, পরে আসামিদের কক্ষের স্টিলের খাট উঁচু করে দেখলে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। ওই দৃশ্য দেখেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ এসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করলে তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেন।

জেরার সময় তিনি আদালতকে জানান, তিনি নিজের চোখে দেখা ঘটনার বর্ণনাই দিয়েছেন এবং আসামিদের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না।

এর আগে একই আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বড় মেয়েকে ছোট মেয়ে রামিসাকে আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যেতে বলেন। কিছু সময় পর শিশুদের না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তিনি বলেন, পরে ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজ নিয়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। বারবার দরজা ধাক্কা দিলেও কেউ খুলছিল না।

তিনি আদালতে আরও বলেন, চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জড়ো হয়। পরে মোবাইল ফোনে উঁকি দিয়ে ভেতরে স্বপ্না খাতুনকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। পরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে বাথরুমের কাছে রক্ত দেখতে পান তারা।

জেরায় পারভীন আক্তার দাবি করেন, সোহেল রানা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং তার স্ত্রী সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি গ্রিল কেটে পালানোর কথাও শুনেছেন বলে আদালতকে জানান।

মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে। মামলা বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495