র্যাবের তিন সাবেক ডিজিসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম
বিরোধী দল ও মতের মানুষদের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রথম মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের তিন সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান। এছাড়া র্যাব কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে চারজন এখনো কর্মরত আছেন, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী তারা আর কোনো সরকারি পদে থাকতে পারবেন না।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে শতাধিক ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মৃতদেহ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বহু গুমভুক্ত ব্যক্তি বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বীন কাশেম ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী প্রমুখ।
এসব ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই দুই মামলা দায়ের করে প্রসিকিউশন, যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বুধবার সকালে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়।