যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: হাসিনার রায় নিয়ে ড. ইউনূস

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫২ এএম

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার মতে, এ রায় দেশের ভেতর যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনি দেশের বাইরে–ও বড় প্রতিধ্বনি তৈরি করেছে।

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এই মৌলিক নীতি আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।”

তিনি আরও বলেন, জুলাই–অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এবং যেসব পরিবার এখনো শোক বহন করছে—তাদের জন্য এ রায় হয়তো যথেষ্ট নয়, তবে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

ড. ইউনূস বলেন, “বছরের পর বছর ধরে চলা নিপীড়নে দুর্বল হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। শিশু ও তরুণদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ শুধু দেশের আইনই নয়, সরকার ও জনগণের মৌলিক সম্পর্কও লঙ্ঘন করেছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অভ্যুত্থানের সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল সংখ্যা নয়—তারা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিক। দীর্ঘ কয়েক মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ হয়েছে, এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও।

এই রায়কে তিনি নিহতদের যন্ত্রণার স্বীকৃতি এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার হিসেবে দেখেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ আবার জবাবদিহিতার আন্তর্জাতিক ধারা ফিরে পাচ্ছে। পরিবর্তনের জন্য যে ছাত্র–নাগরিকরা দাঁড়িয়েছিলেন, তারা জানতেন এর প্রয়োজন কত গভীর। অনেকেই জীবন দিয়ে সেই মূল্য পরিশোধ করেছেন।”

তার মতে, সামনে পথ শুধু আইনি জবাবদিহিতায় সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের আস্থা পুনর্গঠনই বড় চ্যালেঞ্জ। “আজকের রায় সেই পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,”—যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মানুষের সম্ভাবনার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকলে ন্যায়বিচার আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং তার সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন পান পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

দেড় দশক দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা ১৫ মাস আগে ক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় এসেছে।

যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার সরকার ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য গঠন করেছিল—সেই আদালত থেকেই এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে এই ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495