বিয়ের মঞ্চ থেকে হাদী হত্যার বিচার চাইলেন নতুন দম্পতি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিয়ে মানেই আনন্দ, উৎসব ও ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়। তবে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় ছাত্র শক্তির এক নেতার বিয়ের অনুষ্ঠান সেই প্রচলিত ধারণা ভেঙে পরিণত হয় ন্যায়বিচারের দাবির এক ব্যতিক্রমী মঞ্চে। আনন্দঘন আয়োজনের মাঝেই উঠে আসে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় ছাত্র শক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর ফারুকের বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমীভাবে উচ্চারিত হয় বহুল আলোচিত ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি। ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন দাবি উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে একটি প্রশ্ন— হাদী হত্যার বিচার কবে?
সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোর সংরক্ষিত জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তার সঙ্গে এনসিপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ছাত্র শক্তির পক্ষ থেকে বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সিয়াম রেজা, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ হক, মুরাদ মাহফিজ, মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম ফাহিম এবং কার্যকরী সদস্য শাহরিয়ার নোমান।
সেখানে একে অপরের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে জাতীয় ছাত্র শক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সিয়াম রেজা বলেন, হাদী হত্যার বিচার বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চাওয়া। এটি কেবল একটি পরিবারের দাবি নয়, এটি প্রতিটি সচেতন মানুষের হৃদয়ের দাবি। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিচারের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। তবে সময় গড়ালেও বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।