নরসিংদীর ধর্ষণের ঘটনায় টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন বিএনপি নেতা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ এএম
নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা আক্তারকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার ছেলে ইমরান দেওয়ানসহ এজাহারভুক্ত মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন তরুণ আমেনাকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরিবারের দাবি, ঘটনার বিচার চেয়ে তারা আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে গেলে তিনি বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দিয়ে বিষয়টি নিজের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন তিনি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ারও চাপ দেওয়া হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত এবাদুল্লাহ স্বীকার করেছেন যে আগের ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে তারা আহম্মদ আলী দেওয়ানকে অর্থ দেন। অর্থের বিনিময়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা ও অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথম ঘটনার বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমেনার বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে তিনি মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ তার সামনে থেকেই কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি কোতয়ালীরচর গ্রামের একটি শর্ষেখেতে স্থানীয়রা কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আমেনা আক্তার বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি বস্ত্র কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
এ ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), এবাদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও গাফফার (৩৭)।
এদিকে, সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জানান, জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। একজন অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি নূরাকে ধরতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।