এসিল্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সুরুজ মিয়া নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সুরুজ মিয়া সরকারি উন্নয়নমূলক কাজেও হস্তক্ষেপ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তিনি উপজেলার আরুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসলেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাননি।

আরুয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য সোনিয়া আক্তার পলি অভিযোগ করেন, তার আওতাধীন দুটি রাস্তার উন্নয়নকাজে বাধা দিয়ে সুরুজ মিয়া চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি হুমকি দেন যে, ইউনিয়নের যেকোনো উন্নয়ন কাজে তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং কাজের অংশ দিতে হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ১২টি সরকারি টয়লেট জোরপূর্বক নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিতরণ করা হয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহেল রানা জানান, তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর আশ্বাস দিয়ে সুরুজ মিয়া দুই লাখ টাকার চুক্তি করেন এবং অগ্রিম হিসেবে এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত কাজ না করে উল্টো হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি টয়লেট পাইয়ে দিতে ৩ হাজার টাকা, ভিজিএফ কার্ডের জন্য ২ হাজার টাকা এবং মামলা থেকে অব্যাহতির নামে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।

হালিমা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও কাউকে প্রতিশ্রুত সুবিধা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তার কথা না মানায় তাকে সংগঠন থেকে মৌখিকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউসুফ অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মামলা থেকে মুক্তির আশ্বাস দিয়ে ২৯ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এছাড়া, মন্দির উন্নয়ন কাজেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ হালদার বলেন, সরকারি বরাদ্দে চলমান উন্নয়নকাজে গিয়ে সুরুজ মিয়া নিজেকে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দাবি করে কাজ বন্ধের হুমকি দেন।

নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আরুয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. রাশেদ জানান, মিথ্যা অভিযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে, আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নাসিরুদ্দিন বলেন, সুরুজ মিয়ার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো দলের ওপর বর্তাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুরুজ মিয়া দাবি করেছেন, তিনি এসিল্যান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাইম বলেন, তিনি গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই ইউনিয়নের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এবং কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে সরকারি দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। সুরুজ মিয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, গত বছরের ২৩ জুলাই ভিজিডব্লিউবি কর্মসূচিসহ বিভিন্ন খাতে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জন নারী শিবালয় উপজেলার তৎকালীন ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495