খুলনা আদালতে ধর্ষককে গুলি করে হত্যা? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মিলল ভিন্ন তথ্য
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে শিশু ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়।
শুক্রবার খুলনা আদালত চত্বরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও ভিডিওটিকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার আদালত এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজেও সেদিন আদালতের পাশের মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন বলে জানান। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ ও চ্যানেল দর্শক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল তার বক্তব্য নেওয়ার পরও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সংবাদ প্রচার করেছে, যা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার নগরের লবণচরা থানার পুটিমারী বাজার এলাকায় গোলাগুলির একটি ঘটনা ঘটে। জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে জাহিদ নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন।

আহত মাসুম বিল্লাহ পুটিমারী বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা। বর্তমানে তারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হামলাকারী পারভেজ পিস্তল দিয়ে মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে জাহিদও গুলিবিদ্ধ হন।
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ অবশ্যই জানতে পারত। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর নগরীতে নতুন কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূলত ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের ঘটনা। সেদিন আদালতে হাজিরা শেষে রাজেন ওরফে রাজন ও হাসিব আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেলে বসেছিলেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে একদল সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলা করা হয়। এতে রাজন নিহত হন এবং হাসিব গুরুতর আহত হন।
এছাড়া ভিডিওতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের পুরোনো পোশাক দেখা যাওয়ায় সেটি পুরোনো ভিডিও বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারণ ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ নতুন পোশাক ব্যবহার শুরু করে।