বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
দেশের জ্বালানি খাতে চলমান অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৫ মে) নিশ্চিত করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, পিডিবির প্রস্তাব জমা পড়লেও এখনো বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আসেনি। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগবে। প্রস্তাবগুলো প্রথমে কারিগরি কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হবে, এরপর গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আসন্ন ঈদের ছুটির কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বাড়িয়ে প্রতি ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৭.০৪ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
পিডিবি জানিয়েছে, দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে।
অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী বর্তমান মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির আর্থিক ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির কারণে এই ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছে। সরকারের মতে, দাম সমন্বয় না করলে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির চাপ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী পাইকারি দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও নতুন ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করেছে। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে মূল্য সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিইআরসি’র গণশুনানি ও পর্যালোচনার পর জানানো হবে।