বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্কহার কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে রেসিপ্রোকাল ভিত্তিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
এর আগে শুল্কহ্রাসের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, শুল্ক কতটা কমানো সম্ভব—তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র একশটির বেশি দেশের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেশি, সেসব দেশকে এই সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুরুতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকায় মোট শুল্কহার প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। এতে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়ে।
এই অবস্থায় শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘ আলোচনার পর গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে বাড়তি শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়, ফলে মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর শর্ত দেওয়া হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, এলএনজি, সয়াবিন তেল, ভুট্টা ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এবার নতুন এ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।