রোজার শুরুতেই মুরগি, শসা, লেবু, বেগুনসহ নানা পণ্যের দাম বৃদ্ধি
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দাম দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১৭০ টাকার ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। ৩২০ টাকার সোনালি মুরগি বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা। গরুর মাংসও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খাসির মাংস আগের মতোই ১২০০ টাকায় রয়েছে।
সবজির বাজারেও চড়া দামের প্রভাব। ৭-৮ টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। ৭০-৮০ টাকার বেগুন এখন ১২০-১৩০ টাকা, ৫০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। ৭০ টাকার কাঁচা মরিচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকায়। আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজি ১০০ টাকার ওপরে।
ডালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ১৩৫ টাকার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। মোটা দানার মসুর ৮০ থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। এঙ্কর ডাল গত বছরের ৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১০-১২০ টাকা।
রমজানের শুরুতেই আটা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। দুই কেজির আটার প্যাকেট ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৫ টাকা। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬০ টাকায় কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে ছোলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। পাইকারিতে ৮০-৮৫ এবং খুচরায় ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় ছোলার সরবরাহে সংকট নেই।
শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর পরও খেজুরের দাম কমেনি। বরং অধিকাংশ জনপ্রিয় জাতের খেজুরে দাম বেড়েছে। দাবাস ৫৫০-৫৭০, বরই ৪৮০-৫০০, কালমি ৭০০, সুক্কারি ৮০০, মাবরুম ৮৫০-১২০০, মরিয়ম ১১০০-১৪০০ এবং মেডজুল ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, রমজান উপলক্ষে পর্যাপ্ত পণ্যমজুত রয়েছে এবং সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবুও বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।