যুদ্ধবিরতির বার্তায় তেলের দামে বড় পতন
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ এএম
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ইরান যুদ্ধের অবসান এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় বাজারে এ পরিবর্তন এসেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ০৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধক হিসেবে থাকা হরমুজ প্রণালি প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরান ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কি হয় দেখা যাক। তবে আমার মনে হয়, আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”
রয়টার্স জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করছে।
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরান যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের উদ্যোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে এই যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পরিবর্তে একটি সাময়িক সমঝোতা স্মারকের দিকে ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাত এড়াতে সহায়ক হতে পারে।