যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তেলের দাম। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় এই প্রভাব পড়েছে বাজারে।
রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে পরবর্তীতে কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম দাঁড়ায় ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলারে।
এদিকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজার ইতিবাচক সূচনা করেছে। সকালে জাপানের নিকেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।
সোমবার আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথ খুঁজতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে রোববার ওমানে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি রাশিয়ায় যান, এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও চূড়ান্ত কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে। তেহরানের হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ওই প্রণালী দিয়ে মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্যে জানা যায়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
সূত্র: আল জাজিরা