পুরুষদের জন্য নতুন ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি থাকলেও এবার সেই চিত্র বদলাতে পারে। পুরুষদের জন্য হরমোনবিহীন ও সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা ভবিষ্যতে পরিবার পরিকল্পনায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ছয় বছর ধরে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে একটি নিরাপদ ও অস্থায়ী পদ্ধতি তৈরি করেছেন। তাদের দাবি, এই পদ্ধতি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় স্থায়ী কোনো ক্ষতি করে না।
সম্প্রতি ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যানসার গবেষণায় ব্যবহৃত একটি বিশেষ যৌগ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ রাখা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুরের ওপর তিন সপ্তাহ এই পদ্ধতি প্রয়োগের পর তাদের শুক্রাণু উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রয়োগ বন্ধ করার ছয় সপ্তাহের মধ্যেই তারা আবার স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে পায় এবং সুস্থ বাচ্চা জন্ম দিতে সক্ষম হয়।
গবেষকদের মতে, পুরুষদেহে শুক্রাণু তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘মায়োসিস’ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেই এই ফল পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে ‘জেকিউ১’ নামের একটি যৌগ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শরীরের অন্য কোনো ক্ষতি না করে নির্দিষ্টভাবে শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।
কর্নেল রিপ্রোডাক্টিভ সায়েন্সেস সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক পলা কোহেন জানান, অণ্ডকোষে গর্ভনিরোধক প্রয়োগ কার্যকর হতে পারে—এটি তাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে এই পদ্ধতি বন্ধ করলে স্বাভাবিক মায়োসিস প্রক্রিয়া ও শুক্রাণুর কার্যকারিতা ফিরে আসে এবং ভবিষ্যতে সুস্থ সন্তান জন্ম দেওয়াও সম্ভব।
গবেষকরা আরও জানান, তারা শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে শুধুমাত্র উৎপাদন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, যা প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।
ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ইনজেকশনের মাধ্যমে কয়েক মাস পরপর প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সাময়িকভাবে প্রজনন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সফল হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।