ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যা, নিহত অন্তত ১৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ এএম
দীর্ঘ খরার পর ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের ফলে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন হেরাত গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী।
আফগানিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানান, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া বন্যায় মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যায় সড়ক, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বহু গবাদিপশু মারা গেছে এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যায় শহর ও গ্রামীণ এলাকার আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও প্রয়োজন নির্ধারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরিপ দল পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হেরাত–কান্দাহার মহাসড়কের দাশত-ই বাকওয়া এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্রোতে একটি ট্রাক উল্টে যায়। অন্য একটি ভিডিওতে প্রবল স্রোতে একটি বাস উল্টে যাওয়ার পর যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ভারতের মতো আফগানিস্তানও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে। জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জন্য ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আহ্বান করেছে জাতিসংঘ।