ইরান যুদ্ধ এতো দীর্ঘায়িত হবে ভাবেনি যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ থামার কোনো ইঙ্গিত মিলছে না; বরং হামলা ও পাল্টা হামলার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ এত দীর্ঘায়িত হবে এবং ইরান এত শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে—এমন পরিস্থিতি শুরুতে ওয়াশিংটন কল্পনাও করতে পারেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলা পুরো পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।
গণমাধ্যমটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার ব্রাসেলস বলেন, যুদ্ধ এখন ১৪তম দিনে পৌঁছালেও শুরুতে এমন পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ধারণাই করতে পারেনি যে ইরান ও তার মিত্ররা এত বড় পরিসরে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
ম্যাগনিয়ারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পেন্টাগনের হিসাবের বাইরে ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক রকেট ও ড্রোন হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি করছে।
ম্যাগনিয়ার সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে যে পক্ষ আগে দুর্বলতা দেখাবে, শেষ পর্যন্ত তাকেই পরাজিত হিসেবে ধরা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কঠোর অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে।
অন্যদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি এই সংঘাতকে ‘পছন্দের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মূলত ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি; এটি পুরোপুরি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নেওয়া সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উদ্বেগ অনেকটাই স্ববিরোধী। কারণ কয়েক মাস আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী ছিল না; বরং তেহরানের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে দেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।