যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে জয়ের ঘোষণা দিতে পারছেন না ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:১২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এমন এক জটিল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সরাসরি বিজয় ঘোষণা করতে পারছেন না। বরং বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ থামালেও কৌশলগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে এমন এক অবস্থার মুখোমুখি ট্রাম্প, যেখানে স্পষ্ট বিজয় দাবি করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে, যার কারণে ট্রাম্প এখনো ইরান যুদ্ধে জয় দাবি করতে পারছেন না।

প্রথমত, হরমুজ প্রণালির জটিলতা বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু ইরান কার্যত এই পথকে অচল করে রেখেছে। সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগ করে এটি পুরোপুরি চালু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান এই পথ বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বাড়ছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটেনি এবং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

তৃতীয়ত, যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছে। ইসরায়েল ইরানের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও ইসরায়েল সেই সিদ্ধান্তে সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চতুর্থত, এই যুদ্ধে স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের অভাব রয়েছে। কখনো বলা হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা লক্ষ্য, আবার কখনো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। ফলে ঠিক কোন অবস্থাকে বিজয় বলা হবে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

পঞ্চমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার মতে, ইসফাহান কেন্দ্রে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত থাকতে পারে। এই মজুত পুরোপুরি ধ্বংস না হলে ভবিষ্যতে ইরান আবার পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কা থেকে যাবে।

ষষ্ঠত, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। যুদ্ধের ধাক্কায় সাধারণ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে বড় কোনো আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। বরং অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বিদেশি হামলার মুখে সরকার আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

সপ্তমত, যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও চাপ তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সহিংস ঘটনার খবর এবং যুদ্ধের ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সামনে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো স্পষ্ট বিজয় খুব কমই দেখা যায়। তাই ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত থেকে কৌশলগতভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495