সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ২০ বিলিয়ন ডলার নগদ পাচ্ছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে একটি নির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। গোপন এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র।
চলতি সপ্তাহে দুই দেশের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতারা এবং ইসরায়েল এর বিরোধিতা করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং মিসর ও তুরস্কের সহায়তায় এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানের কাছে থাকা প্রায় ২ হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরানের জন্য বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দিলেও ইরান দাবি করেছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘ আলোচনার পর বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি মধ্যম প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অর্থ ব্যবহারের শর্ত এবং ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ওয়াশিংটন চেয়েছিল ইরান তাদের পারমাণবিক উপাদান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। এখন একটি সমঝোতার প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তদারকিতে ইরানেই কমিয়ে ফেলা হবে।
খসড়া চুক্তিতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সাময়িক স্থগিতাদেশ অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য এই স্থগিতাদেশ চাইলেও ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভূপৃষ্ঠে স্থানান্তর এবং গবেষণামূলক কাজে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হলেও এ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
এদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নের বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নেতা মনে করছেন, এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হলে চুক্তি কার্যকর হবে না।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও তা যথেষ্ট নয়। ইরান একদিকে অর্থনৈতিক সুবিধা চায়, অন্যদিকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলেছেন, তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। অপরদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আলোচনা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চুক্তি এখন খুব কাছাকাছি। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়েছে। তবে চুক্তি না হলে আবার সংঘাত শুরু হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে তুরস্কে একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন। সেখানে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।