ভারতে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসে ব্যর্থ মোদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ভারতের সংসদে নারী সংরক্ষণ ও লোকসভায় আসন বৃদ্ধিসংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। মোট ৫২৮ জন সংসদ সদস্য এতে অংশ নিলেও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।
সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করে। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। দ্বিতীয়টি ছিল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল এবং তৃতীয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে প্রথম বিলটি পাস না হওয়ায় বাকি দুটি বিল আর ভোটাভুটিতে তোলা হয়নি।
শুরু থেকেই বিজেপি সরকারের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। দুই দিনের বিতর্কে বিরোধী দলগুলো জানায়, তারা নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত করায় আপত্তি রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নারী সংরক্ষণের আড়ালে সংসদের আসন বাড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা বাড়াতে চাইছে সরকার।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে বক্তব্য দিয়ে আশ্বস্ত করেন, লোকসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না। তিনি এটিকে জাতীয় স্বার্থের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বলেন, বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮১৬টি করা হলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে বাড়তেও পারে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, জনগণনার আগে আসন পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়ে উত্তর ভারতের প্রভাব বাড়ানো এবং দক্ষিণের প্রভাব কমানোই সরকারের লক্ষ্য। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তারা নারী সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করলেও আসন পুনর্বিন্যাস যুক্ত থাকায় পুরো প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন। একইভাবে ডিএমকে নেত্রী কণিমোঝিও সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাস হয়েছিল, যেখানে জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়। তবে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্নের আগেই দুইটি বিষয় একসঙ্গে যুক্ত করে নতুন বিল আনার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।