এমপিদের বেতন কত টাকা, কি কি সুযোগ-সুবিধা পাবেন?
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এ আইনের সংশোধন করা হয়।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, একজন এমপির মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা পরিচালনা ভাতা ১২ হাজার ৫০০ টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অফিস পরিচালনা ভাতা ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খাতে ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ মূল বেতনের বাইরে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন খরচের জন্য আলাদা ভাতা পান সংসদ সদস্যরা।
যানবাহনের ক্ষেত্রে শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ রয়েছে। পাঁচ বছর দায়িত্বকাল পূর্ণ হলে একই সুবিধায় নতুন গাড়ি আনার সুযোগ পান তারা।
ভ্রমণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে—বিমান, রেল বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা। সড়কপথে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা ট্রাভেল পাস সুবিধা রয়েছে।
দায়িত্বস্থলে অবস্থানকালে দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রাপ্য হয়।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতা রয়েছে।
দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য। এছাড়া বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা কল ও ভাড়া বাবদ বরাদ্দ থাকে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত। সব মিলিয়ে বেতনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সহায়ক একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পান এমপিরা।