বঙ্গভবনে নয়, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ায় এককভাবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। ইতোমধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার শপথ অনুষ্ঠান হবে না বঙ্গভবন-এ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য যেখানে প্রয়োজন ১৫১ আসন, সেখানে দলটি সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রথমে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন— এমনটাই প্রায় নিশ্চিত।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ দেওয়া যাবে।
শপথ শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।