রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত জোটের ওয়াকআউট

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের কার্ড প্রদর্শন করেন।

রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।

এ সময় বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদের কর্মকর্তারা সদস্যদের দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করেন। তখন কয়েকজন সদস্য দাঁড়ালেও কেউ কেউ বসে ছিলেন। তবে জামায়াত জোটের সদস্যদের তখন প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এরপর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।

স্পিকার বলেন, “আমরা সংবিধানের বিধান ও জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুসরণ করতে চাই। দয়া করে আপনারা খারাপ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না।”

তবে স্পিকারের আহ্বান উপেক্ষা করেই বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনেই এ ঘটনায় কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

রীতি অনুযায়ী প্রথম দিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সূচি প্রকাশের পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল জামায়াত জোট।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্পিকার অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করেন। জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াকআউটের পর এদিন আর অধিবেশনে অংশ নেননি।

বিরোধী দলের এমন আচরণকে স্বাভাবিক বলেই মন্তব্য করেছেন সরকারের দায়িত্বশীলরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী তারা তা করতে পারেন। তবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের বিষয়টি না করলেও পারতেন বলে মত দেন তিনি।

অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করার পর বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তিনটি অভিযোগের কারণে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করা হয়েছে। তার দাবি, রাষ্ট্রপতি অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন এবং সে কারণেই তারা এই ভাষণ গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

এ সময় বিরোধী দলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শুরু থেকে নিয়ম মেনেই বিরোধী দল সংসদে অংশ নিয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার আগে বিরোধী দলীয় নেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেই তারা ওয়াকআউট করেছেন।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495