ভারতীয় সীমান্তে নিখোঁজ বাংলাদেশি

চোরাচালানের সংশ্লিষ্টতার দাবি বিজিবির, পরিবারের অভিযোগ ‘গুলি করে হত্যা’

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

ভারতীয় সীমান্ত (ইনসেটে বাংলাদেশি যুবক সাদ্দাম হোসেন)। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন তথ্য দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিখোঁজ ওই ব্যক্তি পূর্বে সুপারি চুরিসহ চোরাচালান কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা সীমান্ত দিয়ে ৪-৫ জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা আনুমানিক ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে রাজন টিলা এলাকার খাসিয়া পল্লীতে সুপারি চুরির উদ্দেশ্যে যান। এ সময় স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজন আহত হন।

বিজিবি জানায়, সংঘর্ষের পর আহতদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে বাকিরা বাংলাদেশে ফিরতে সক্ষম হলেও সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ হয়ে যান। তার অবস্থান শনাক্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে সাদ্দামের পরিবারের দাবি, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার পর কোমর ও পায়ে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তার সঙ্গে থাকা একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরে এসে ঘটনার বিষয়টি জানান।

সাদ্দামের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, “শুনেছি আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই মারা গেছে।” এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহটি সীমান্তের ওপারে রয়েছে বলে জানা গেছে। মরদেহ দেশে আনা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানার পর বিজিবি তদন্ত শুরু করেছে এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো তারা কোনো মরদেহ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করতে সতর্ক করা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495