দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। শিল্প ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেডে অপরিশোধিত তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল সেখানে তেল পরিশোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে গত দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। দেশে সর্বশেষ চালান আসে ১৮ ফেব্রুয়ারি, নতুন চালান মে মাসের শুরুতে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিফাইনারির কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং পাইপলাইনে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কিছুদিন পরিশোধন চালু রাখা হয়েছিল। মূল মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসব বিকল্প উৎসের তেল দিয়েই উৎপাদন চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। সংকটের কারণে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামানো হয়। অবশিষ্ট ডেড স্টক ও পাইপলাইনের তেল ব্যবহার করেও উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা হয়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। এছাড়া এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। বাকি চাহিদা মেটাতে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495