নির্বাচন ইস্যুতে দিশাহারা হেফাজত, চার ধারায় বিভক্ত নেতাকর্মীরা

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছে অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তবে সাংগঠনিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার দাবি থাকলেও বাস্তবে নির্বাচন ইস্যুতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অন্তত চারটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হেফাজতের একাংশ নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট থেকে প্রার্থী হওয়ায় তাদের অনুসারীরাও নিজ নিজ দলের পক্ষে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। আবার কেউ সরাসরি প্রার্থী না হলেও পছন্দের দল বা জোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পুরোপুরি নীরব থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

২০১০ সালে কওমি মাদরাসাভিত্তিক ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠিত হয়। হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বিভিন্ন ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা শীর্ষ পদে থাকায় জাতীয় রাজনীতিতে সংগঠনটির প্রভাব বরাবরই আলোচিত।

এর আগে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে হেফাজতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান না থাকলেও এবারের নির্বাচনে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টির একাধিক নেতা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিএনপি জোট, জামায়াত-সমর্থিত জোট, জামায়াতবিরোধী অবস্থান এবং নিরপেক্ষ—এই চারটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুই অংশ বিএনপি জোটে যুক্ত হওয়ায় হেফাজতের একটি বড় অংশ ওই জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে থাকায় আরেকটি অংশ জামায়াতের পক্ষে কাজ করছে।

এদিকে হেফাজতের আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতকে ইসলামী দল নয় বলে মন্তব্য এবং ভোট না দেওয়ার আহ্বান সংগঠনটির ভেতরেও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। যদিও এসব বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মত বলে দাবি করছেন হেফাজত নেতারা।

এ ছাড়া জামায়াত জোটবিরোধী ১০১ আলেমের নামে প্রকাশিত বিবৃতি নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিবৃতিতে নাম থাকা একাধিক আলেম স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করায় প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, যা হেফাজতের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তবে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত কওমি মাদরাসাভিত্তিক বড় একটি অংশ এখনো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেয়নি। তারা মূলত মাদরাসার মুহতামিম ও মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলছেন এবং নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্য মতামত দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন। সংগঠন হিসেবে নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকেই নাগরিক অধিকার হিসেবে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সাংগঠনিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার দাবি করলেও বাস্তবে নেতাকর্মীদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান সংগঠনটির ভেতরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আমারদেশ

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495