প্রশাসক ও ভিসি পদে দলীয় নিয়োগ জুলাই স্পিরিটের পরিপন্থি: জামায়াত
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ ধরনের নিয়োগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করেছে, যা অনভিপ্রেত। জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বাভাবিক নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নির্বাচনের পরিবর্তে সরকার প্রথমে ৬টি এবং পরে আরও ৫টিসহ মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব নিয়োগে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও দলীয় সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, যা জনমতের প্রতিফলন নয়। এতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জুলাইয়ের চেতনা ব্যাহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয়ভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকারকে কার্যকর রাখতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীকেও উপাচার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচনে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকার একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর করে প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেষে তিনি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।