যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতার হামলা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৩ পিএম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা চত্বরে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, আটক হওয়া এক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভ থেকে এই হামলা চালান স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে সখিপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাসেল শিকদার এবং এশিয়ান টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি রুহুল আমীন জুয়েল।
সাংবাদিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তিনি থানা হেফাজতে থাকার সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে সখিপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার কয়েকজন সহযোগীসহ থানায় উপস্থিত হন। এ সময় তিনি পুলিশকে আটক যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।
থানার ভেতরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছবি ধারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। এ সময় সাংবাদিকদের মারধর করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহত সাংবাদিক রাসেল শিকদার জানান, আটক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় হট্টগোলের খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তথ্য সংগ্রহ শেষে থানা ফটকের সামনে অবস্থানকালে হঠাৎ করেই অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, “থানার মতো একটি জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত ভয়ংকর ও লজ্জাজনক। ঘটনার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অপর আহত সাংবাদিক রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ হামলা চালিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। থানার ভেতরেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ থাকব?”
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক জার্নালিস্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব নুরুল আমিন রবিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদার বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তারা যে সাংবাদিক ছিলেন, তা তিনি জানতেন না। তিনি দাবি করেন, ছবি তোলা নিয়ে শুধু নিষেধ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান এবং দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীন বলেন, আটক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয় জানালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।