‘দাঁড়িপাল্লা এতো ভোট কেমনে পাইলো’ বলে মসজিদের ইমামের উপর যুবদল নেতার হামলা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বেশি ভোট পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক মসজিদের ইমামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চর-নারায়ণপুর দেওয়ান বাড়ি মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হাফেজ মাওলানা মনির হুসাইন ওই মসজিদের ইমাম-খতিব ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ব ডামুড্যা চর-নারায়ণপুর কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে শতাধিক ভোট বেশি পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হয়। ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার স্থানীয় যুবদল নেতা আকিব হাওলাদারসহ কয়েকজন মসজিদে গিয়ে ইমাম মনির হুসাইনের কাছে জানতে চান— “দাঁড়িপাল্লা এতো ভোট কেমনে পাইলো?”
ইমাম জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু কারা কাকে ভোট দিয়েছেন সে বিষয়ে তার কোনো ভূমিকা নেই। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয় এবং জুমার নামাজের পর মসজিদে পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
জুমার নামাজের সময় ইমামকে না পেয়ে মুসল্লিরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি শামিম দেওয়ানকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মুসল্লি ইলিয়াস হোসাইন বলেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু একজন ইমামের ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
আহত ইমাম মনির হুসাইন বলেন, “আমি শুধু বলেছি, আমি এক ভোটের মালিক। সবাই আমার কথা শুনে ভোট দেবে— এমন তো নয়। দাঁড়িপাল্লা বেশি ভোট পাওয়ায় আমার ওপর হামলা হবে, এটা কখনও ভাবিনি।” তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত আকিব হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তবে তার কর্মীরা মারধর করে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করে ফোন কেটে দেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।