কুমিরের ভিডিও ভাইরাল: জিডি, তদন্ত কমিটির পর সেই কুকুরের পোস্টমর্টেম

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের শিকার হওয়া একটি কুকুরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা, তদন্ত কমিটি গঠন এবং নানা বিতর্কের মধ্যে এবার কুকুরটির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মাজার এলাকার ভেতরেই কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী।

তিনি জানান, কুকুরটির মাথা রাজধানীর কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না।

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল বিকেলে। মাজারের প্রধান ঘাটে ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি একটি কুকুরকে পানির নিচে টেনে নেয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ দাবি করেন, মাজারের খাদেমরা নিয়মিত কুমিরকে কুকুর খাওয়ান।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের দাবি, কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজেই ঘাটের দিকে যায়। পরে পানিতে নামলে কুমিরটি সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে, যা পরে খাদেমরা মাটিচাপা দেন।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুরটি ঘাটের পানিতে দাঁড়িয়ে ছিল। একপর্যায়ে গভীর পানিতে গেলে কুমিরটি ধীরে ধীরে কাছে এসে হঠাৎ করেই সেটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।

ঘটনার সময় ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল বলে জানান স্থানীয়রা। কুকুরটি নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজনকে কামড় দেয় বলেও জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি শিশুসহ একাধিক মানুষকে আক্রমণ এবং কয়েকটি গৃহপালিত প্রাণী হত্যা করেছিল কুকুরটি।

একজন স্থানীয় যুবক জানান, সম্প্রতি কুমিরটি ডিম দেওয়ায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কুমিরের মুখ থেকে কুকুরটিকে উদ্ধারে কেউ সাহস করেননি।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ফেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের এক সদস্য বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের সামনে দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কখনোই কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। কুসংস্কারের কারণে কেউ জীবন্ত প্রাণী নিক্ষেপের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মাজার সংলগ্ন দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। অতীতে আনা একাধিক কুমিরের মধ্যে এটিই এখন জীবিত আছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495