কুষ্টিয়ায় কথিত পীর শামিম হত্যা: ঘটনাস্থলে না থাকলেও প্রধান আসামি জামায়াত নেতা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটির নেতারা। তাদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তবুও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, খাজা আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
লিখিত বক্তব্যে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন বলেন, ফিলিপনগরের এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে প্রধান আসামি করেছে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতার উপস্থিতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।
জামায়াত নেতারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা যাবে না।
দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো সহিংসতা বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না। খাজা আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণেও তার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক, যুব বিভাগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান পলাশসহ দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ তুলে কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় তাকে ও তার অনুসারীদের মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে তাতে খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়।