সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে অফিসে তালা দিল ভূমি অফিসের কর্মকর্তা

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, খতিয়ান করতে আসা ব্যবসায়ী আলমাস হোসেনের কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাগজপত্র তিন মাস ধরে আটকে রাখা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক পিয়াল হাসান রিয়াজ, মুমিনুল হক রুবেল ও এস এম অলিউল্লাহ নবীনগর সদর ভূমি অফিসে যান। এ সময় সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকসহ কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে অফিসের ভেতরে রেখে কেচি গেইটে তালা লাগিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই অফিসে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। পরে দর কষাকষির মাধ্যমে সমঝোতা হলে খারিজের ফাইল উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়। এর আগেও শামসুদ্দোহা’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. রুবেল মিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত বছরের ১ মার্চ দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় সরকারি খালের মাটি কাটার অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৭৯ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।

এছাড়া, অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে জানান, খারিজের নামে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাদের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সেবা নিতে আসা নবির হোসেন ও ইসলাম মিয়া বলেন, টাকা না দেওয়ায় অনেকের কাজ করা হয়নি। সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আলমাস হোসেন জানান, তিন মাস আগে ৫০০ টাকা দিয়ে খারিজের আবেদন করলেও পরে তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার আবেদন বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, খারিজ করতে গেলে তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, শুনানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495