চট্টগ্রামে ইসলাম গ্রহণের পর কলেজছাত্রী নিখোঁজ, ভারতে পাচারের আশঙ্কা

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের এক শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বর্তমান নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২০)। ইসলাম গ্রহণের আগে তার নাম ছিল তন্নী দে বিপন্না। তিনি কলেজটির দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৯ মার্চ তাকে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যদিও তিনি প্রাপ্তবয়স্ক, তবুও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন তিনি সহপাঠী ও সিনিয়রদের কাছে অভিযোগ করেন, তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে অথবা ভারতে পাচার করা হতে পারে।

পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় দ্রুত উদ্ধারের আকুতি জানান জারা। ওই বার্তায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে কিংবা ভারতে পাচার করা হতে পারে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে জারার বাবা সঞ্জিত কুমার দে ও মা তপশী দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমে থানায় অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় পরে আদালতে মামলা করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জারাকে উদ্ধার করে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্ধার তৎপরতা না থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে জারা ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং গত ১ মার্চ আদালতে হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন। বিষয়টি জানার পর তার পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার পরপরই জারা বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সময়ের সঙ্গে শঙ্কা বাড়ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে বাদীপক্ষের মতে, পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনলে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জারাকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা না হলে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495